কিভাবে বুঝবেন আপনার পোষা বিড়াল অসুস্থ হয়েছে

অনেক পোষা বিড়ালের মালিকই প্রথম দিকে বুঝতে পারেন না যে তাদের বিড়ালটি অসুস্থ। কারণ বিড়াল স্বভাবগতভাবেই ব্যথা বা দুর্বলতা লুকিয়ে রাখে। ফলে খাওয়া, আচরণ, পানি পান বা লিটার ব্যবহারের মতো দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট পরিবর্তনই অনেক সময় অসুস্থতার প্রথম সংকেত হয়ে দেখা দেয়। এসব পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করতে পারলে সময়মতো প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সহজ হয় এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিড়ালের প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস লক্ষ্য করলে অনেক রোগই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব। খাওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়া, আচরণে পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঘুম, লিটার ব্যবহারের অভ্যাস বদলে যাওয়া কিংবা লোমের যত্ন না নেওয়া এসবই গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। সময়মতো এসব লক্ষণ শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসাও দ্রুত শুরু করা যায় এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

এই নিবন্ধে বিড়ালের অসুস্থতার সাধারণ লক্ষণ, সম্ভাব্য কারণ, কোন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রাণিচিকিৎসা প্রয়োজন এবং ঘরে বসে কীভাবে প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন তা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়; সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে নিবন্ধিত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

কেন বিড়ালের অসুস্থতা সহজে ধরা পড়ে না?

অনেক সময় বিড়ালের স্বাভাবিক আচরণ, বয়স, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে অসুস্থতার লক্ষণ ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। তাই শুধুমাত্র একটি লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে একাধিক পরিবর্তন একসঙ্গে মূল্যায়ন করা বেশি কার্যকর।

বিড়াল স্বভাবগতভাবে শান্ত এবং আত্মনির্ভর প্রাণী। তারা ব্যথা বা অস্বস্তি থাকলেও অনেক সময় স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করে। এ কারণেই মালিকদের শুধু দৃশ্যমান অসুস্থতার লক্ষণের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রতিদিনের রুটিন, খাবারের পরিমাণ, খেলাধুলা, পানি পান, ঘুম এবং পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রাণিচিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন অনেক সময় শারীরিক সমস্যার প্রথম লক্ষণ হতে পারে। তাই প্রতিদিনের স্বাভাবিক অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন থাকলে ছোট পরিবর্তনও দ্রুত ধরা সম্ভব।

খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন

একটি সুস্থ বিড়াল সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে আগ্রহী থাকে। যদি হঠাৎ করে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, কয়েক বেলা না খায় অথবা খাবারের কাছে গিয়ে আবার ফিরে আসে, তাহলে এটি অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে।

অন্যদিকে হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেশি খাওয়াও কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক বিড়ালের ক্ষেত্রে ওজন কমার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষুধা দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।

একদিনের বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ খাবার না খেলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় না খেলে বিড়ালের যকৃতের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পানি পান করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া

বিড়ালের পানির চাহিদা সাধারণত খুব বেশি নয়। কিন্তু যদি হঠাৎ বারবার পানি পান করতে দেখা যায় অথবা একেবারেই পানি না খায়, তাহলে এটি শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

অতিরিক্ত পানি পান অনেক সময় কিডনি, রক্তে শর্করার ভারসাম্য বা অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আবার পানি কম খেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন সৃষ্টি করে।

অতিরিক্ত ঘুম অথবা অস্বাভাবিক অলসতা

বিড়াল প্রতিদিন অনেক সময় ঘুমায়। তবে স্বাভাবিক ঘুম আর অসুস্থতার কারণে নিস্তেজ হয়ে থাকা এক বিষয় নয়। যদি আগে যে বিড়ালটি খেলাধুলা করত, হঠাৎ সারাদিন এক জায়গায় শুয়ে থাকে, ডাকলেও সাড়া না দেয় বা চলাফেরায় অনীহা দেখায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

অলসতার সঙ্গে যদি ক্ষুধামন্দা, জ্বর, বমি বা শ্বাসকষ্টও যুক্ত হয়, তাহলে দ্রুত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন

বিড়ালের স্বভাবের পরিবর্তন অনেক সময় শারীরিক অসুস্থতার প্রথম লক্ষণ হয়ে দেখা দেয়। শান্ত বিড়াল হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে যেতে পারে, আবার খুব চঞ্চল বিড়াল একেবারে নির্জনে থাকতে চাইতে পারে।

কেউ কাছে এলে লুকিয়ে পড়া, কোলে আসতে না চাওয়া, স্পর্শ করলে বিরক্ত হওয়া অথবা অকারণে শব্দ করা এসবই অস্বস্তি বা ব্যথার ইঙ্গিত হতে পারে।

লিটার ব্যবহারের অভ্যাস পরিবর্তন

প্রতিদিনের লিটার ব্যবহারের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করলে অনেক রোগ দ্রুত শনাক্ত করা যায়। প্রস্রাবের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, কমে যাওয়া, রক্ত দেখা যাওয়া, প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়া অথবা লিটারের বাইরে মলমূত্র ত্যাগ করা এসব লক্ষণ কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

বিশেষ করে প্রস্রাব করতে গিয়ে বারবার চেষ্টা করা কিন্তু প্রস্রাব না হওয়া জরুরি চিকিৎসার বিষয়। এতে মূত্রনালির জটিলতা থাকতে পারে, যা দ্রুত মূল্যায়ন না হলে জটিলতা বাড়তে পারে।

বমি ও পাতলা পায়খানা

মাঝেমধ্যে লোমের বল বের হওয়ার কারণে একবার বমি করা সবসময় উদ্বেগের বিষয় নয়। তবে বারবার বমি হওয়া, বমির সঙ্গে রক্ত থাকা, খাবার খাওয়ার পরপরই বমি করা অথবা পাতলা পায়খানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

এ ধরনের সমস্যা শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে এবং ছোট বিড়ালছানার ক্ষেত্রে এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শ্বাস-প্রশ্বাসে পরিবর্তন

স্বাভাবিক অবস্থায় বিড়ালের শ্বাস-প্রশ্বাস শান্ত এবং নিয়মিত থাকে। যদি মুখ খুলে শ্বাস নিতে দেখা যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, দ্রুত শ্বাস নেয় বা শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ হয়, তাহলে এটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

শ্বাসকষ্ট বিভিন্ন ধরনের হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস অথবা সংক্রমণজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়িতে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়াই নিরাপদ।

চোখ, কান ও নাকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

সুস্থ বিড়ালের চোখ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল থাকে। চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়া, ঘন স্রাব, লালভাব বা চোখ আধা বন্ধ রাখা সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। একইভাবে নাক দিয়ে ঘন স্রাব বের হওয়া, বারবার হাঁচি বা শ্বাস নিতে শব্দ হওয়াও সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।

কানের ভেতরে দুর্গন্ধ, কালচে ময়লা, ঘন ঘন মাথা ঝাঁকানো বা কান চুলকানো কানের সংক্রমণ বা পরজীবীর উপস্থিতির লক্ষণ হতে পারে।

লোম ও ত্বকের পরিবর্তন

বিড়াল সাধারণত প্রতিদিন নিজের লোম পরিষ্কার রাখে। অসুস্থ হলে তারা অনেক সময় এই পরিচর্যা বন্ধ করে দেয়। ফলে লোম জট পাকিয়ে যায়, উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং ত্বক শুষ্ক দেখায়।

অতিরিক্ত লোম পড়া, চুলকানি, ক্ষত, লালচে দাগ অথবা শরীরে গিঁটের মতো কিছু অনুভূত হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। অনেক ত্বকের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা করলে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ওজন দ্রুত কমে যাওয়া

অনেক মালিক প্রতিদিন বিড়ালকে দেখে ওজন কমে যাওয়া বুঝতে পারেন না। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শরীর শুকিয়ে যাওয়া, পাঁজরের হাড় স্পষ্ট বোঝা যাওয়া অথবা একই খাবার খেয়েও ওজন কমতে থাকা উদ্বেগের বিষয়।

ওজন হ্রাস অনেক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই নিয়মিত ওজন মাপা একটি ভালো অভ্যাস।

মুখের দুর্গন্ধ ও দাঁতের সমস্যা

বিড়ালের মুখ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসা, খাবার চিবাতে কষ্ট হওয়া, মুখ দিয়ে লালা পড়া বা শক্ত খাবার এড়িয়ে চলা দাঁত ও মাড়ির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে ব্যথার কারণে বিড়াল খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ে।

কখন দ্রুত প্রাণিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন?

কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। যেমন বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব না হওয়া, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীরের কোনো অংশে বড় আঘাত, অতিরিক্ত রক্তপাত অথবা এক দিনের বেশি সময় সম্পূর্ণ খাবার না খাওয়া।

ছোট বিড়ালছানা, বয়স্ক বিড়াল এবং আগে থেকেই অসুস্থ বিড়ালের ক্ষেত্রে সামান্য উপসর্গও দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

ঘরে বসে নিয়মিত কী কী পর্যবেক্ষণ করবেন?

প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই অনেক সমস্যা আগেই ধরা সম্ভব। প্রতিদিন খাবারের পরিমাণ, পানি পান, লিটার ব্যবহার, আচরণ, হাঁটাচলা, লোমের অবস্থা এবং চোখ-কান পরিষ্কার আছে কি না তা লক্ষ্য করুন। সপ্তাহে অন্তত একবার শরীর হাত দিয়ে পরীক্ষা করলে অস্বাভাবিক গিঁট, ক্ষত বা ব্যথার জায়গাও সহজে শনাক্ত করা যায়।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়মতো টিকা এবং পরজীবী নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বিড়ালকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. বিড়াল অসুস্থ হলে সবচেয়ে প্রথম কোন লক্ষণটি সাধারণত দেখা যায়?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম পরিবর্তন দেখা যায় বিড়ালের স্বাভাবিক আচরণে। আগে যে বিড়ালটি খেলাধুলা করত, হঠাৎ নির্জনে থাকতে শুরু করতে পারে, আগের তুলনায় কম খেতে পারে অথবা অতিরিক্ত ঘুমাতে পারে। প্রতিদিনের অভ্যাসে ছোট পরিবর্তনও অনেক সময় স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

২. একটি বিড়াল কতক্ষণ খাবার না খেলে প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

যদি একটি প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কোনো খাবার না খায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। ছোট বিড়ালছানার ক্ষেত্রে আরও দ্রুত মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়া বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই নিবন্ধিত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

৩. সব ধরনের বমিই কি গুরুতর সমস্যার লক্ষণ?

সব সময় নয়। মাঝে মাঝে লোমের বল (Hairball) বের হওয়ার কারণে একবার বমি হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে বারবার বমি হওয়া, বমিতে রক্ত দেখা যাওয়া, খাবার খেলেই বমি করা অথবা বমির সঙ্গে দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য উপসর্গ থাকলে দ্রুত প্রাণিচিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়া উচিত।

৪. বিড়াল কেন অনেক সময় অসুস্থতা লুকিয়ে রাখে?

বিড়ালের পূর্বপুরুষ বন্য পরিবেশে বাস করত, যেখানে দুর্বলতা প্রকাশ করলে শিকার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেত। সেই স্বভাবের কারণেই আজও অনেক বিড়াল অসুস্থ হলেও যতটা সম্ভব স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করে। এজন্য প্রতিদিনের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. বিড়াল হঠাৎ বেশি পানি পান করলে কি চিন্তার কারণ?

সব সময় নয়। আবহাওয়া, খাবারের ধরন বা দৈনন্দিন কার্যকলাপের কারণে সাময়িকভাবে পানি পান বাড়তে পারে। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পানি পান করে এবং একই সঙ্গে বেশি প্রস্রাব করে, তাহলে এটি স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬. বিড়ালের ওজন কতদিন পরপর পরীক্ষা করা ভালো?

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালের ক্ষেত্রে মাসে অন্তত একবার ওজন পর্যবেক্ষণ করা ভালো অভ্যাস। বয়স্ক বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত বিড়ালের ক্ষেত্রে প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও নিয়মিত ওজন পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

৭. অসুস্থ বিড়ালকে কি বাড়িতে বিশ্রাম দিলেই যথেষ্ট?

সামান্য ক্লান্তি থাকলে বিশ্রাম উপকারী হতে পারে। তবে ক্ষুধামন্দা, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাবের সমস্যা, বারবার বমি, খিঁচুনি, আচরণে বড় পরিবর্তন বা অন্যান্য গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে শুধু বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিবন্ধিত প্রাণিচিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়া উচিত।

৮. মানুষের ওষুধ কি বিড়ালকে খাওয়ানো নিরাপদ?

না। মানুষের জন্য ব্যবহৃত অনেক ওষুধ বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট বিড়ালকে দেওয়া উচিত নয়।

৯. কোন লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে প্রাণিচিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?

মুখ খুলে শ্বাস নেওয়া, প্রস্রাব করতে না পারা, বারবার বমি, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাত, গুরুতর আঘাত, বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফেলা অথবা দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ প্রাণিচিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত।

১০. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা শুরুতে দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই বিকাশ লাভ করতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে দাঁত, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র, ওজন এবং অন্যান্য পরিবর্তন প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সহজ হয়। এতে সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

১১. সুস্থ বিড়ালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কত ঘন ঘন করানো উচিত?

সাধারণভাবে বছরে অন্তত একবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বয়স্ক বিড়াল, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত বিড়াল অথবা বিশেষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা বিড়ালের ক্ষেত্রে প্রাণিচিকিৎসক আরও ঘন ঘন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

১২. কীভাবে একটি পোষা বিড়ালকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা যায়?

সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, পরিষ্কার লিটার, নিয়মিত খেলাধুলা, সময়মতো টিকা, পরজীবী নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পরিবেশ এবং নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি বিড়ালের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে তার আচরণ ও দৈনন্দিন অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করাও ভালো অভ্যাস।

এই তথ্যগুলো কীভাবে ব্যবহার করবেন?

এই নিবন্ধে উল্লেখিত লক্ষণগুলো বিড়ালের সাধারণ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো কোনো রোগ নির্ণয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনা নয়। যদি লক্ষণগুলো দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, দ্রুত খারাপ হয় বা একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে নিবন্ধিত প্রাণিচিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

উপসংহার

বিড়ালের অসুস্থতা অনেক সময় প্রথম দিকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। তাই প্রতিদিনের খাবার, পানি পান, আচরণ, লিটার ব্যবহারের অভ্যাস, লোমের অবস্থা এবং শারীরিক সক্রিয়তার মতো বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট পরিবর্তনও অনেক সময় স্বাস্থ্য সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। সময়মতো নিবন্ধিত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অনেক সমস্যার দ্রুত মূল্যায়ন ও উপযুক্ত চিকিৎসা সম্ভব হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সচেতন পরিচর্যাই একটি পোষা বিড়ালের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ভিত্তি।

Leave a Comment