কুকুর কি খায়? কুকুরের খাবার তালিকা ও যেসব খাবার কুকুরের জন্য ক্ষতিকর

কুকুর কি খায় এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, কুকুর মাংস, শস্য, কিছু ফল ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে পারে। কিন্তু কুকুর কোনো খাবার আনন্দের সঙ্গে খাচ্ছে মানেই সেটি তার জন্য নিরাপদ বা পুষ্টিকর, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মানুষের শরীর যে খাবার সহজে সহ্য করতে পারে, একই খাবার কুকুরের শরীরে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই খাবারের ধরন নির্বাচনের পাশাপাশি পরিমাণ, রান্নার পদ্ধতি এবং কুকুরের বয়স ও শারীরিক অবস্থাও বিবেচনা করতে হয়।

একটি সুস্থ কুকুরের দৈনন্দিন খাবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রয়োজনীয় প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি সঠিক অনুপাতে দেওয়া। শুধু ভাত-মাংস বা বাড়ির বেঁচে যাওয়া খাবার নিয়মিত খাওয়ালে দেখতে স্বাভাবিক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই মূল খাবার হিসেবে কুকুরের বয়স ও জীবনপর্যায়ের উপযোগী সম্পূর্ণ ও সুষম খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো।

এই লেখায় কোন খাবার কুকুরকে দেওয়া যায়, কোনগুলো সীমিত পরিমাণে দেওয়া উচিত এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন, সেসব বিষয় ব্যবহারিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে কোনো কুকুরের কিডনি, যকৃত, ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি, হজমের সমস্যা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে তার খাবারের পরিকল্পনা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত। এই লেখার তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কুকুরের সুষম খাবারে কী থাকা প্রয়োজন?

কুকুরের শরীর ঠিকভাবে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ ও শক্তির উৎস দরকার। বিভিন্ন জীবনপর্যায়ে এই পুষ্টির অনুপাতও পরিবর্তিত হয়। বেড়ে ওঠা কুকুরছানার প্রয়োজন এবং কম সক্রিয় পূর্ণবয়স্ক কুকুরের প্রয়োজন এক নয়। একইভাবে গর্ভবতী, দুধ খাওয়ানো কিংবা অত্যন্ত সক্রিয় কুকুরের শক্তি ও পুষ্টির চাহিদা আলাদা হতে পারে।

প্যাকেটজাত খাবার বেছে নেওয়ার সময় শুধু মোড়কের সামনের আকর্ষণীয় লেখা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে খাবারটি কুকুরের কোন জীবনপর্যায়ের জন্য তৈরি এবং সেটি সম্পূর্ণ ও সুষম পুষ্টি দেওয়ার উপযোগী কি না তা যাচাই করা ভালো। এএএফসিওর নির্দেশনাতেও কুকুরের জীবনপর্যায় অনুযায়ী উপযুক্ত খাবার নির্বাচন এবং মোড়কে থাকা পুষ্টিগত উপযোগিতার তথ্য দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কুকুরের খাবার তালিকা

সুস্থ কুকুরকে নিচের অনেক খাবার সঠিকভাবে রান্না ও প্রস্তুত করে সীমিত পরিমাণে দেওয়া যেতে পারে। তবে এগুলো সবসময় কুকুরের মূল সুষম খাবারের বিকল্প নয়। নতুন কোনো খাবার প্রথমবার দিলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা ভালো।

  • সেদ্ধ মুরগির মাংস: হাড়, চামড়া ও অতিরিক্ত চর্বি বাদ দিয়ে মসলা ছাড়া রান্না করা মুরগি প্রোটিনের একটি ভালো উৎস হতে পারে।
  • সেদ্ধ গরুর মাংস: চর্বি কম এমন মাংস ভালোভাবে রান্না করে অল্প পরিমাণে দেওয়া যায়। পেঁয়াজ, রসুন বা ঝাল মসলা ব্যবহার করা যাবে না।
  • সম্পূর্ণ রান্না করা ডিম: সেদ্ধ বা তেল-মসলা ছাড়া ভালোভাবে রান্না করা ডিম অনেক কুকুরের জন্য উপযোগী প্রোটিনের উৎস।
  • মাছ: কাঁটা সম্পূর্ণ সরিয়ে ভালোভাবে রান্না করা মাছ দেওয়া যায়। কাঁচা বা আধা রান্না মাছ না দেওয়াই নিরাপদ।
  • সেদ্ধ ভাত: সাধারণ সাদা বা বাদামি চালের ভাত অল্প পরিমাণে দেওয়া যায়। এতে লবণ, তেল বা মসলা না থাকাই ভালো।
  • কুমড়া: খোসা ও শক্ত অংশ বাদ দিয়ে রান্না করা সাধারণ কুমড়া অল্প পরিমাণে দেওয়া যায়।
  • গাজর: পরিষ্কার করে ছোট টুকরায় কাটা কাঁচা বা সেদ্ধ গাজর অনেক কুকুরের জন্য ভালো অতিরিক্ত খাবার হতে পারে।
  • সবুজ শিম ও মটরশুঁটি: লবণ ও মসলা ছাড়া রান্না করে অল্প পরিমাণে দেওয়া যেতে পারে।
  • আপেল: বীজ, মাঝের শক্ত অংশ ও ডাঁটা সম্পূর্ণ সরিয়ে ছোট টুকরায় দেওয়া যায়।
  • কলা: চিনির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ছোট টুকরা করে মাঝে মাঝে দেওয়া ভালো।
  • ব্লুবেরি: অল্প পরিমাণে অতিরিক্ত খাবার হিসেবে দেওয়া যায়।
  • তরমুজ: বীজ ও শক্ত খোসা বাদ দিয়ে অল্প পরিমাণে দেওয়া যেতে পারে।

কুকুরকে মানুষের রান্না করা খাবার দেওয়ার সময় যে নিয়ম মানবেন

মানুষের জন্য রান্না করা তরকারি বা মাংসে সাধারণত লবণ, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, তেল এবং বিভিন্ন মসলা থাকে। ফলে মূল উপাদানটি কুকুরের জন্য গ্রহণযোগ্য হলেও পুরো রান্নাটি উপযুক্ত নাও হতে পারে। কুকুরের জন্য আলাদা খাবার তৈরি করলে পেঁয়াজ, রসুন, ঝাল মসলা, অতিরিক্ত লবণ ও তেল ছাড়া সাধারণভাবে রান্না করা ভালো।

আরেকটি ব্যবহারিক নিয়ম হলো, অতিরিক্ত খাবারকে মূল খাবারে পরিণত না করা। কুকুর সেদ্ধ মাংস বা ফল পছন্দ করছে বলে প্রতিদিন তার সুষম খাবার বাদ দিয়ে শুধু এসব খাবার দিলে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

যেসব খাবার কুকুরের জন্য ক্ষতিকর

কিছু খাবার কুকুরকে ইচ্ছাকৃতভাবে একেবারেই দেওয়া উচিত নয়। আবার কুকুর ভুল করে এসব খাবার খেলে লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।

  • চকলেট: চকলেটে থাকা থিওব্রোমিন ও ক্যাফেইন কুকুরের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। সাধারণভাবে গাঢ় ও চিনি ছাড়া রান্নায় ব্যবহৃত চকলেটে এসব উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, তাই চকলেট কুকুরকে না দেওয়াই উচিত।
  • আঙুর ও কিশমিশ: কিছু কুকুরের ক্ষেত্রে এগুলো গুরুতর কিডনি ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত। নিরাপদ পরিমাণ নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা কঠিন, তাই সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা ভালো।
  • পেঁয়াজ ও রসুন: কাঁচা, রান্না করা, শুকনো বা গুঁড়া বিভিন্ন অবস্থাতেই ক্ষতিকর হতে পারে। এগুলো কুকুরের লোহিত রক্তকণিকার ক্ষতি করতে পারে।
  • জাইলিটল: চিনি ছাড়া কিছু চুইংগাম, মিষ্টি, দাঁতের পেস্ট, মুখ পরিষ্কারের তরল, কাশির সিরাপ এবং কিছু বাদামের মাখনে জাইলিটল থাকতে পারে। এটি কুকুরের রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমিয়ে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো পণ্যে জাইলিটল আছে কি না সন্দেহ হলে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি।
  • ম্যাকাডেমিয়া বাদাম: কুকুরের জন্য বিষাক্ত হিসেবে পরিচিত, তাই না দেওয়াই উচিত।
  • ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ও পানীয়: কফি, চা, কোলা, শক্তিবর্ধক পানীয় এবং ক্যাফেইনযুক্ত অন্যান্য খাবার বা পানীয় কুকুরের নাগালের বাইরে রাখা উচিত।
  • কাঁচা ইস্টযুক্ত ডো: পেটের ভেতরে ফুলে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এবং গাঁজনের মাধ্যমে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা খুব বেশি চর্বিযুক্ত খাবার কুকুরকে না দেওয়াই ভালো। বেশি চর্বিযুক্ত খাবার হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং কিছু কুকুরের অগ্ন্যাশয়জনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

হাড় কি কুকুরের জন্য নিরাপদ?

কুকুরকে হাড় দেওয়া প্রচলিত হলেও বিশেষ করে রান্না করা হাড় নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। হাড় ভেঙে ধারালো টুকরা তৈরি হতে পারে, দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কিংবা গলা ও পরিপাকতন্ত্রে আটকে যেতে পারে। একইভাবে ভুট্টার মোচা, ফলের বড় বিচি এবং অন্য অপাচ্য শক্ত জিনিসও অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চিবানোর প্রয়োজন মেটাতে কুকুরের জন্য তৈরি নিরাপদ বিকল্প ব্যবহার করা ভালো।

কুকুরছানা ও পূর্ণবয়স্ক কুকুরের খাবার কি একই?

কুকুরছানা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাই তার শক্তি ও নির্দিষ্ট পুষ্টির প্রয়োজন পূর্ণবয়স্ক কুকুরের তুলনায় ভিন্ন। বিশেষ করে বড় জাতের কুকুরছানার বৃদ্ধিকালে পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণবয়স্ক কুকুরের ক্ষেত্রে শরীরের আদর্শ ওজন ও দৈনিক কার্যকলাপ অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করা প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে কার্যকলাপ কমে গেলে একই পরিমাণ উচ্চ শক্তিসম্পন্ন খাবার চালিয়ে গেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।

বাড়িতে তৈরি খাবার কি নিয়মিত দেওয়া যাবে?

বাড়িতে তৈরি খাবার দেওয়া সম্ভব, কিন্তু শুধু মাংস, ভাত ও সবজি মিশিয়ে দিলেই সেটি সম্পূর্ণ সুষম খাবার হয়ে যায় না। ঘরে তৈরি অনেক খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, আয়োডিনসহ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির অনুপাত ঠিক রাখা কঠিন হয়। দীর্ঘদিন এমন অসম্পূর্ণ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করলে স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।

যদি কুকুরকে দীর্ঘমেয়াদে ঘরে তৈরি খাবারই দিতে চান, তার ওজন, বয়স, শারীরিক অবস্থা ও দৈনিক কার্যকলাপ বিবেচনায় পশু চিকিৎসক বা প্রাণী পুষ্টিবিদের সাহায্যে একটি পরিমাপভিত্তিক খাদ্যতালিকা তৈরি করা নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

কুকুরের খাবারের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করবেন?

সব কুকুরের জন্য একই পরিমাণ খাবার নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ওজন, বয়স, জাত, দৈনিক কার্যকলাপ, শরীরের গঠন, নির্বীজনের অবস্থা এবং স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিদিনের শক্তির চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে। খাবারের মোড়কে দেওয়া পরিমাণের নির্দেশনাকে প্রাথমিক ধারণা হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে কুকুরের ওজন ও শরীরের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

একটি কার্যকর অভ্যাস হলো নির্দিষ্ট মাপের পাত্র ব্যবহার করে প্রতিদিনের খাবার দেওয়া। চোখের আন্দাজে খাবার দিলে অজান্তেই পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া খাবার, অতিরিক্ত খাবার এবং মানুষের খাবার থেকে পাওয়া পরিমাণও কুকুরের মোট দৈনিক খাবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

কুকুর ক্ষতিকর কিছু খেয়ে ফেললে কী করবেন?

কুকুর যদি চকলেট, জাইলিটলযুক্ত কোনো পণ্য, আঙুর, কিশমিশ, পেঁয়াজ, রসুন বা অন্য কোনো সন্দেহজনক খাবার খেয়ে ফেলে, প্রথমে খাবারের প্যাকেট বা উপাদানের তালিকা সংরক্ষণ করুন এবং আনুমানিক কতটুকু খেয়েছে তা জানার চেষ্টা করুন। এরপর দ্রুত পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কুকুর তখন স্বাভাবিক দেখালেও অপেক্ষা করা ঠিক নয়, কারণ কিছু বিষক্রিয়ার লক্ষণ পরে দেখা দিতে পারে।

নিজে থেকে বমি করানো বা মানুষের কোনো ওষুধ খাওয়ানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা খাওয়া উপাদান, পরিমাণ, সময় এবং কুকুরের ওজনের ওপর নির্ভর করে। তাই পেশাদার নির্দেশনা নেওয়াই নিরাপদ।

কুকুরের খাবার নিয়ে ১০টি সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. কুকুর কি প্রতিদিন ভাত খেতে পারে?

সেদ্ধ ভাত অনেক কুকুরই সহ্য করতে পারে, তবে শুধু ভাতকে দৈনন্দিন প্রধান খাবার বানানো উচিত নয়। ভাত মূলত শক্তির উৎস এবং একা কুকুরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজের সম্পূর্ণ ভারসাম্য দিতে পারে না। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাত ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. কুকুরকে মুরগির মাংস দেওয়া যাবে?

হ্যাঁ, বেশিরভাগ সুস্থ কুকুরকে হাড় ও চামড়া বাদ দেওয়া ভালোভাবে রান্না করা মুরগির মাংস দেওয়া যায়। এতে পেঁয়াজ, রসুন, ঝাল মসলা বা অতিরিক্ত তেল দেওয়া উচিত নয়। কোনো কুকুরের নির্দিষ্ট প্রোটিনে অ্যালার্জি থাকলে অবশ্য আলাদা পরামর্শ প্রয়োজন।

৩. কুকুর কি ডিম খেতে পারে?

সম্পূর্ণ রান্না করা ডিম সাধারণত কুকুরকে অল্প পরিমাণে দেওয়া যায় এবং এটি প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে। কাঁচা ডিম নিয়মিত দেওয়ার পরিবর্তে ভালোভাবে রান্না করে দেওয়া নিরাপদ। ডিমকে মূল খাদ্যের বিকল্প না করে অতিরিক্ত খাবার হিসেবে ব্যবহার করা ভালো।

৪. কুকুর কি দুধ খেতে পারে?

সব কুকুর দুধ সমানভাবে হজম করতে পারে না। কিছু কুকুরের ল্যাকটোজ হজম করার ক্ষমতা কম থাকায় দুধ খেলে পেট ফাঁপা, পাতলা পায়খানা বা অস্বস্তি হতে পারে। দুধ কুকুরের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাবার নয়। দুধ দেওয়ার পর হজমের সমস্যা দেখা দিলে সেটি বন্ধ করা এবং সমস্যা অব্যাহত থাকলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৫. কুকুরকে কলা দেওয়া কি নিরাপদ?

অল্প পরিমাণে পাকা কলা অনেক কুকুরের জন্য নিরাপদ অতিরিক্ত খাবার হতে পারে। তবে এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় বেশি পরিমাণে নিয়মিত দেওয়া উচিত নয়। খোসা বাদ দিয়ে ছোট টুকরায় দেওয়া ভালো এবং অতিরিক্ত ওজন বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬. কুকুর কি মাছ খেতে পারে?

কাঁটা সম্পূর্ণ সরিয়ে ভালোভাবে রান্না করা মাছ অনেক কুকুরকে দেওয়া যায়। রান্নার সময় লবণ, ঝাল, পেঁয়াজ বা রসুন যোগ করা উচিত নয়। কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না হওয়া মাছের পরিবর্তে সম্পূর্ণ রান্না করা মাছ বেছে নেওয়াই নিরাপদ।

৭. কুকুরকে প্রতিদিন মানুষের খাবার দেওয়া ঠিক কি?

মানুষের জন্য তৈরি সাধারণ রান্না প্রতিদিন দেওয়া আদর্শ নয়, কারণ এতে অতিরিক্ত লবণ, তেল, মসলা এবং কুকুরের জন্য ক্ষতিকর পেঁয়াজ বা রসুন থাকতে পারে। পাশাপাশি শুধুমাত্র মানুষের খাবার দিয়ে কুকুরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি সঠিক অনুপাতে দেওয়া কঠিন।

৮. কুকুর যদি আঙুর বা কিশমিশ খেয়ে ফেলে তাহলে কী করব?

এক্ষেত্রে অপেক্ষা না করে দ্রুত পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। আঙুর ও কিশমিশ কিছু কুকুরের কিডনিতে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে এবং কোন কুকুর ঠিক কতটুকু খেলে সমস্যা হবে তা নির্ভরযোগ্যভাবে অনুমান করা কঠিন। সম্ভব হলে খাওয়ার সময় ও আনুমানিক পরিমাণ চিকিৎসককে জানান।

৯. কুকুরের জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার কোনটি?

একটি নির্দিষ্ট খাবার সব কুকুরের জন্য সবচেয়ে ভালো নয়। উপযুক্ত খাবার নির্ভর করে কুকুরের বয়স, ওজন, শরীরের অবস্থা, কার্যকলাপ ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের ওপর। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তার জীবনপর্যায়ের উপযোগী সম্পূর্ণ ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং শরীরের স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।

১০. কুকুর নতুন খাবার খাওয়ার পর পাতলা পায়খানা করলে কী করবেন?

হঠাৎ খাবার পরিবর্তন করলে কিছু কুকুরের হজমে সমস্যা হতে পারে। নতুন কোনো খাবার দেওয়ার পর পাতলা পায়খানা বা অস্বস্তি দেখা দিলে নতুন খাবারটি বন্ধ করে কুকুরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। তবে সমস্যা চলতে থাকলে অথবা বারবার বমি, পায়খানায় রক্ত, দুর্বলতা, পেটব্যথা, পানি না খাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা

এই লেখার কুকুরের পুষ্টি ও ক্ষতিকর খাবার সম্পর্কিত তথ্য এএএফসিও এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রকাশিত পোষা প্রাণীর খাদ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে কুকুরের স্বাস্থ্য ও খাদ্য সহ্য করার ক্ষমতা ভিন্ন হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উপসংহার

কুকুর মাংস, ভাত, ডিম, কিছু মাছ, ফল ও সবজিসহ বিভিন্ন খাবার খেতে পারে, কিন্তু নিরাপদ খাবার আর সম্পূর্ণ সুষম খাবার এক বিষয় নয়। দৈনন্দিন খাবারে কুকুরের বয়স, ওজন, কার্যকলাপ ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী সঠিক পুষ্টির ভারসাম্য নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চকলেট, আঙুর, কিশমিশ, পেঁয়াজ, রসুন, জাইলিটল, ম্যাকাডেমিয়া বাদাম এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবার কুকুরের নাগালের বাইরে রাখা উচিত। খাবার নিয়ে সন্দেহ হলে অনুমানের পরিবর্তে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

Leave a Comment