খরগোশের প্রজনন দ্রুত হলেও মা ও বাচ্চার স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গর্ভকাল, খাবার, বাসা, প্রসবের স্বাভাবিক আচরণ এবং জরুরি লক্ষণ সম্পর্কে আগে থেকেই জানা দরকার। বিশেষ করে পোষা খরগোশের ক্ষেত্রে পরিকল্পনাহীন প্রজনন মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রজননের আগে খরগোশের বয়স, স্বাস্থ্য ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বেশিরভাগ মাদি খরগোশ প্রায় ৩১ থেকে ৩৩ দিনের মধ্যে বাচ্চা দেয়। শেষ কয়েক দিনে খড় মুখে নিয়ে বাসা বানানো, নিজের বুক বা পেটের লোম তুলে বাসা নরম করা এবং নিরিবিলি জায়গা খোঁজা স্বাভাবিক। তবে একই আচরণ মিথ্যা গর্ভাবস্থাতেও দেখা যেতে পারে, তাই শুধু বাসা বানানো দেখে গর্ভধারণ নিশ্চিত করা যায় না।
সাধারণভাবে কম হস্তক্ষেপের পাশাপাশি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাই ভালো। সুস্থ মাদি সাধারণত মানুষের সাহায্য ছাড়াই বাচ্চা জন্ম দেয় এবং পরে দিনে এক বা দুইবার অল্প সময়ের জন্য বাচ্চাদের দুধ খাওয়াতে পারে। তাই মা সব সময় বাচ্চার পাশে না থাকলেই বাচ্চাগুলো পরিত্যক্ত হয়েছে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
প্রজননের আগে স্বাস্থ্য ও বয়স যাচাই
ছোট জাতের খরগোশ তুলনামূলক কম বয়সে এবং বড় জাতের খরগোশ কিছুটা দেরিতে যৌন পরিপক্ব হয়। পশুচিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী ছোট জাত প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার মাসে, মাঝারি জাত চার থেকে সাড়ে চার মাসে এবং বৃহৎ জাত ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে যৌন পরিপক্ব হতে পারে। তবে যৌন পরিপক্ব হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে প্রজননের জন্য উপযুক্ত হওয়া নয়। বয়স কম হওয়া, অতিরিক্ত বা কম ওজন এবং অসুস্থতা থাকলে প্রজননের আগে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গর্ভকাল কতদিন এবং কীভাবে নিশ্চিত করবেন
খরগোশের গর্ভকাল সাধারণত প্রায় ৩১ থেকে ৩৩ দিন। বাচ্চার সংখ্যা কম হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গর্ভকাল কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। মিলনের প্রায় ১২ দিন পর অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসক বা দক্ষ ব্যক্তি পেট পরীক্ষা করে গর্ভধারণ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। অনভিজ্ঞ ব্যক্তির পেট চেপে পরীক্ষা করা উচিত নয়। খরগোশে মিথ্যা গর্ভাবস্থা সাধারণ, তাই সন্দেহ থাকলে পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোই ভালো।
প্রসবের আগে নেস্ট ও পরিবেশ প্রস্তুত
মিলনের প্রায় ২৮ থেকে ২৯ দিন পর পরিষ্কার নেস্ট বক্স বা বাচ্চা রাখার নিরাপদ বাক্স দেওয়া উপযোগী। খুব আগে দিলে সেটি প্রস্রাব বা মলে নোংরা হতে পারে। ভেতরে পরিষ্কার ও শুকনো খড় বা উপযুক্ত নরম বাসা তৈরির উপকরণ রাখুন। শেষ এক বা দুই দিনে মাদি নিজের লোম তুলে খড়ের সঙ্গে মিশিয়ে উষ্ণ বাসা বানাতে পারে। পরিবেশ শান্ত, শুকনো ও ঠান্ডা বাতাস থেকে সুরক্ষিত রাখুন এবং মায়ের বিশ্রামের জন্য নেস্টের বাইরে পর্যাপ্ত জায়গা দিন।
গর্ভবতী খরগোশের খাবার ও পানি
গর্ভাবস্থা ও বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সময় মাদি খরগোশের পুষ্টির চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে। সব সময় পরিষ্কার পানি ও ভালো মানের খড় পাওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। পরিচিত খাবার হঠাৎ পরিবর্তন করবেন না। মাদির ওজন, শারীরিক অবস্থা এবং আগে থেকে অনুসরণ করা খাদ্যতালিকার ভিত্তিতে খাবার সামঞ্জস্য করা উচিত। গর্ভাবস্থায় খাবারের পরিমাণ বা ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করার আগে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রসব শুরু হলে কী করবেন
প্রসবের সময় চারপাশ শান্ত রাখুন এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে মাদিকে ধরা বা বারবার নেস্ট পরীক্ষা করা এড়িয়ে চলুন। পরিষ্কার পানি ও পরিচিত খাবার সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। প্রজননক্ষম পুরুষ খরগোশ একই জায়গায় থাকলে সরাসরি মিলনের সুযোগ বন্ধ করতে তাকে নিরাপদভাবে আলাদা রাখতে হবে, কারণ মাদি প্রসবের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবার গর্ভধারণ করতে পারে। একসঙ্গে থাকা খরগোশকে কীভাবে নিরাপদে আলাদা রাখা হবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কোন লক্ষণ জরুরি
বারবার চাপ দেওয়ার পরও বাচ্চা না বের হওয়া, কোনো বাচ্চা জন্মপথে আটকে থাকা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দুর্গন্ধযুক্ত অস্বাভাবিক স্রাব, হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া, তীব্র অস্বস্তি বা খাওয়া বন্ধ করা জরুরি লক্ষণ হতে পারে। মিলনের তারিখ জানা থাকলে ৩৩ দিনের কাছাকাছি সময়েও প্রসব না হওয়া বা মাদির আচরণ ও স্বাস্থ্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বাড়িতে বাচ্চা টেনে বের করা বা পশুচিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া প্রসব করানোর ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
বাচ্চা জন্মের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা
প্রসবের পর মাকে কিছু সময় শান্ত থাকতে দিন। পরে অল্প সময়ে নেস্ট দেখে নিশ্চিত করুন বাচ্চাগুলো একসঙ্গে, শুকনো ও উষ্ণ আছে। নবজাতক খরগোশ লোমহীন, চোখ বন্ধ এবং প্রথম দিকে নিজে শরীরের তাপমাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। স্বাভাবিকভাবে দুধ পাওয়া বাচ্চা সাধারণত উষ্ণ থাকে, নড়াচড়া করে এবং দুধ খাওয়ার পর পেট কিছুটা ভরা দেখায়। ঠান্ডা, কুঁচকানো, দুর্বল বা বাসার বাইরে পড়ে থাকা বাচ্চা সমস্যার লক্ষণ।
মা বাচ্চার পাশে না থাকলে কি সমস্যা
মাদি খরগোশ সাধারণত বিড়াল বা কুকুরের মতো সারাক্ষণ বাচ্চার পাশে থাকে না। সে দিনে এক বা দুইবার, অনেক সময় মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য, নেস্টে গিয়ে দুধ খাওয়ায়। তাই মা দূরে থাকলেই বাচ্চা পরিত্যক্ত নয়। প্রতিদিন পেট ভরা আছে কি না, শরীর উষ্ণ কি না এবং বাচ্চা সক্রিয় কি না দেখুন। ধারাবাহিকভাবে পেট খালি, শরীর ঠান্ডা বা দুর্বল হলে পশুচিকিৎসকের সাহায্য নিন।
প্রথম কয়েক সপ্তাহে বাচ্চার বিকাশ
সাধারণত জন্মের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বাচ্চার শরীরে লোম দেখা দিতে শুরু করে এবং প্রায় দশ দিনের মধ্যে চোখ ও কান খুলে যায়। প্রথম দশ দিন অপ্রয়োজনীয় ধরাধরি এড়িয়ে নেস্টের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। প্রায় দশ দিন বয়সের পর খুব কোমলভাবে ও অল্প সময়ের জন্য মানুষের স্পর্শের সঙ্গে পরিচিত করা যেতে পারে। এ সময় থেকে ভালো মানের খড় সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা যায়। বাচ্চা বড় হওয়ার সঙ্গে খাবারের পরিবর্তন ধীরে করতে হবে এবং খুব অল্প বয়সে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা উচিত নয়।
হাতে দুধ খাওয়ানোর আগে সতর্কতা
মা দুধ খাওয়াচ্ছে না মনে হলেই সিরিঞ্জে দুধ দেওয়া শুরু করবেন না। নবজাতক খরগোশকে হাতে বড় করা কঠিন এবং ভুলভাবে খাওয়ালে দুধ শ্বাসনালিতে ঢুকে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। সত্যিই মা দুধ দিতে না পারলে কোন দুধের বিকল্প, কত পরিমাণ এবং কীভাবে দিতে হবে তা পশুচিকিৎসকের নির্দেশে ঠিক করা উচিত।
প্রসবের পর মায়ের যত্ন
প্রসবের পর মাদির খাওয়া, পানি পান, মলত্যাগ ও স্বাভাবিক চলাফেরা লক্ষ্য করুন। খাওয়া বন্ধ করা, অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়া, পেটের অস্বাভাবিক ফোলা, অস্বাভাবিক স্রাব বা স্তন ফুলে ব্যথা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পরিষ্কার পানি ও পর্যাপ্ত খড় দিন এবং নেস্ট শুকনো ও পরিচ্ছন্ন রাখুন। বারবার বা খুব অল্প বিরতিতে প্রজনন না করিয়ে মাদির শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ খরগোশের বাচ্চার যত্ন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. খরগোশ কত দিনে বাচ্চা দেয়?
অধিকাংশ মাদি মিলনের প্রায় ৩১ থেকে ৩৩ দিনের মধ্যে বাচ্চা দেয়। মিলনের তারিখ লিখে রাখলে সম্ভাব্য প্রসবের সময় হিসাব করা সহজ হয়। ৩৩ দিনের কাছাকাছি সময়েও প্রসব না হলে বা মাদি অসুস্থ দেখালে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
২. বাচ্চা জন্মের আগে কী লক্ষণ দেখা যায়?
মাদি খড় জড়ো করে বাসা বানাতে পারে, বুক বা পেটের লোম তুলে নেস্ট নরম করতে পারে এবং নিরিবিলি জায়গা খুঁজতে পারে। তবে এসব মিথ্যা গর্ভাবস্থাতেও দেখা যায়, তাই এগুলো একাই নিশ্চিত প্রমাণ নয়।
৩. প্রসবের সময় কি সাহায্য করতে হবে?
সুস্থ মাদি সাধারণত নিজেরাই প্রসব সম্পন্ন করে। শান্ত পরিবেশ, পানি, পরিচিত খাবার ও নিরাপদ নেস্ট নিশ্চিত করুন এবং দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করুন। বাচ্চা আটকে গেলে টানবেন না; দ্রুত পশুচিকিৎসকের সহায়তা নিন।
৪. মা সারাদিন বাচ্চার কাছে থাকে না কেন?
এটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক আচরণ। মাদি সাধারণত দিনে এক বা দুইবার অল্প সময়ের জন্য দুধ খাওয়ায়। বাচ্চার পেট ভরা, শরীর উষ্ণ ও নড়াচড়া স্বাভাবিক থাকলে মাকে দূরে দেখেই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
৫. নবজাতক বাচ্চা ধরলে কি মা ফেলে দেয়?
জন্মের প্রথম দিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাচ্চা ধরা এড়ানো ভালো। কোনো বাচ্চা নেস্টের বাইরে চলে এলে প্রয়োজনে পরিষ্কার হাতে খুব কোমলভাবে তাকে নেস্টে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। মাদিকে অযথা ভয় না দেখিয়ে কাজটি দ্রুত শেষ করুন। সাধারণভাবে প্রায় দশ দিন বয়সের পর অল্প সময়ের জন্য কোমলভাবে ধরার অভ্যাস শুরু করা যেতে পারে।
৬. বাচ্চার চোখ কখন খোলে?
সাধারণত প্রায় দশ দিনের মধ্যে বাচ্চার চোখ খুলে যায় এবং কানও স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে থাকে। চোখ জোর করে খুলবেন না। চোখ ফুলে যাওয়া, পুঁজ দেখা দেওয়া বা স্বাভাবিক সময়ে চোখ না খোলার মতো সমস্যা হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৭. বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কি না কীভাবে বুঝব?
দুধ পাওয়া বাচ্চার পেট সাধারণত কিছুটা ভরা দেখায় এবং তারা উষ্ণ ও শান্ত থাকে। শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেট কুঁচকানো, অতিরিক্ত অস্থিরতা বা দুর্বলতা পর্যাপ্ত দুধ না পাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় নিজে থেকে হাতে দুধ খাওয়ানো শুরু না করে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৮. বাচ্চাদের কখন আলাদা করা যায়?
বাচ্চাদের খুব অল্প বয়সে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা উচিত নয়। দুধ ছাড়ানোর সময় জাত, স্বাস্থ্য ও পালনপদ্ধতি অনুযায়ী কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। আলাদা করার আগে নিশ্চিত করুন তারা নিজেরা ভালোভাবে খড় ও উপযুক্ত খাবার খাচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে। সঠিক সময় নিয়ে সন্দেহ থাকলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৯. প্রসবের পর পুরুষ খরগোশকে আলাদা করতে হবে কি?
হ্যাঁ। প্রজননক্ষম পুরুষ ও মাদির সরাসরি মিলনের সুযোগ বন্ধ করা জরুরি, কারণ প্রসবের অল্প সময়ের মধ্যেই মাদি আবার গর্ভধারণ করতে পারে। তাদের নিরাপদভাবে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করুন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা বা নির্বীজনের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
১০. কোন অবস্থায় দ্রুত পশুচিকিৎসকের কাছে যাব?
বারবার চাপ দেওয়ার পরও বাচ্চা না হওয়া, বাচ্চা জন্মপথে আটকে থাকা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দুর্গন্ধযুক্ত অস্বাভাবিক স্রাব, হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া, তীব্র অস্বস্তি বা খাওয়া বন্ধ করা জরুরি লক্ষণ হতে পারে। এসব অবস্থায় বাড়িতে প্রসব করানোর চেষ্টা বা নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ ব্যবহার না করে দ্রুত খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের সহায়তা নিন।
উপসংহার
খরগোশের গর্ভাবস্থা ও বাচ্চা জন্মের সময় আগে থেকে নেস্ট প্রস্তুত রাখা, পরিষ্কার পানি ও পর্যাপ্ত খড়ের ব্যবস্থা করা, শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং মা ও বাচ্চাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ মাদি স্বাভাবিকভাবে প্রসব করে এবং দিনে অল্প সময়ের জন্য বাচ্চাদের দুধ খাওয়ায়। তাই অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের পরিবর্তে স্বাভাবিক আচরণ ও জরুরি লক্ষণের পার্থক্য জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রসব, খাওয়া, স্রাব বা বাচ্চাদের অবস্থায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্যের ভিত্তি
এই লেখাটি খরগোশের প্রজনন ও পরিচর্যা সম্পর্কিত স্বীকৃত পশুচিকিৎসা ও প্রাণিকল্যাণবিষয়ক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। খরগোশের জাত, বয়স, স্বাস্থ্য ও পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস অনুযায়ী পরিচর্যার প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। গুরুতর অসুস্থতা, জটিল প্রসব বা নবজাতকের সমস্যার ক্ষেত্রে খরগোশে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।