কুকুরের কৃমিনাশক (ডিওয়ার্মিং) কখন ও কীভাবে দেবেন

কুকুর সুস্থ দেখালেও তার অন্ত্রে কৃমি থাকতে পারে। বিশেষ করে ছোট কুকুরছানার ক্ষেত্রে কৃমির সংক্রমণ বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে এবং কখনো গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। তাই শুধু পায়খানায় কৃমি দেখা গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়। বয়স অনুযায়ী প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনে পরীক্ষা মিলিয়েই কৃমি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

কুকুরের কৃমিনাশক বা ডিওয়ার্মিং বলতে উপযুক্ত ওষুধের মাধ্যমে শরীরের নির্দিষ্ট পরজীবী কৃমি দূর করাকে বোঝায়। কিন্তু সব ওষুধ সব ধরনের কৃমির বিরুদ্ধে কাজ করে না। আবার একই ওষুধের পরিমাণ ছোট ছানা ও পূর্ণবয়স্ক কুকুরের জন্য এক হয় না।

এই নির্দেশিকায় কুকুরছানার সময়সূচি, বড় কুকুরের ঝুঁকিভিত্তিক পরিচর্যা, ওষুধ দেওয়ার ব্যবহারিক পদ্ধতি এবং বিপদের লক্ষণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এগুলো সাধারণ পশুচিকিৎসা নির্দেশনার সারাংশ; আপনার কুকুরের জন্য চূড়ান্ত ওষুধ ও মাত্রা পশুচিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

কুকুরকে নিয়মিত কৃমিনাশক দেওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কৃমি কুকুরের অন্ত্রে বাস করে পুষ্টি গ্রহণে বাধা দিতে পারে। সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী পাতলা পায়খানা, ওজন কমা, রক্তশূন্যতা কিংবা পেট ফোলার মতো সমস্যা দেখা যায়। অনেক সময় কোনো লক্ষণই থাকে না। কিছু পরজীবী দূষিত মাটি বা মলের মাধ্যমে মানুষেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই কৃমি নিয়ন্ত্রণ শুধু পোষা প্রাণীর নয়, পরিবারের স্বাস্থ্যরক্ষারও একটি অংশ।

কুকুরের কোন কোন কৃমি বেশি পরিচিত?

গোলকৃমি ছোট ছানার মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জন্মের আগে বা মায়ের দুধের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। হুককৃমি রক্তশূন্যতার কারণ হতে পারে। ফিতাকৃমির অংশ কখনো পায়খানায় বা লেজের নিচের লোমে চালের দানার মতো দেখা যায়; কিছু ফিতাকৃমি পিসু গিলে ফেলার মাধ্যমে ছড়ায়। চাবুককৃমিও দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে। প্রতিটি কৃমির জন্য একই চিকিৎসা উপযুক্ত নয়।

কুকুরছানাকে প্রথম কবে কৃমিনাশক দেবেন?

আন্তর্জাতিক পরজীবী নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণভাবে কুকুরছানার বয়স দুই সপ্তাহ হলে উপযুক্ত কৃমিনাশক শুরু করা হয়। এরপর সাধারণ সূচিতে ৪, ৬ ও ৮ সপ্তাহে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে ছানা কখন মায়ের দুধ ছাড়ছে, তার ওপর নির্ভর করে দুই সপ্তাহ অন্তর চিকিৎসা আরও কিছুদিন চলতে পারে। এরপর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত উপযুক্ত মাসিক প্রতিরোধমূলক ওষুধ বা নির্ধারিত চিকিৎসার পরিকল্পনা পশুচিকিৎসক ঠিক করবেন।

  • ২ সপ্তাহ: প্রথম কৃমিনাশক, পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
  • ৪, ৬ ও ৮ সপ্তাহ: সাধারণ সূচিতে পরবর্তী চিকিৎসা।
  • ২ মাসের পর থেকে ৬ মাস: উপযুক্ত মাসিক প্রতিরোধ বা নির্ধারিত চিকিৎসা।
  • ৬ মাসের পর: পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও পরীক্ষার ফল দেখে নতুন সূচি।

এটি বোঝার জন্য একটি উদাহরণ ধরা যাক: তিন মাসের একটি ছানার আগের চিকিৎসার তথ্য জানা নেই। শুধু বয়স দেখে অতিরিক্ত ওষুধ না দিয়ে তার ওজন, স্বাস্থ্য ও পূর্ববর্তী ইতিহাস নিয়ে পশুচিকিৎসকের কাছে যাওয়াই সঠিক পদক্ষেপ।

পূর্ণবয়স্ক কুকুরকে কতদিন পরপর কৃমিনাশক দেবেন?

পূর্ণবয়স্ক কুকুরের কৃমি নিয়ন্ত্রণের ব্যবধান সবার জন্য এক নয়। সারা বছর কার্যকর পরজীবী প্রতিরোধ সম্ভব না হলে কিছু নির্দেশিকায় বছরে চারবার অন্ত্রের কৃমির চিকিৎসার পরামর্শ রয়েছে। বাইরে ঘোরা, অন্য প্রাণীর সংস্পর্শ, কাঁচা মাংস খাওয়া বা শিকার ধরার অভ্যাস থাকলে আরও ঘন পরীক্ষা বা চিকিৎসা লাগতে পারে। কম ঝুঁকির কুকুরের ক্ষেত্রেও মল পরীক্ষার ফল ও পশুচিকিৎসকের পরামর্শে পরিকল্পনা ঠিক করুন।

কৃমি হয়েছে বুঝবেন কোন লক্ষণে?

বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, পেট ফোলা, স্বাভাবিক খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমা, দুর্বলতা বা মলে কৃমির মতো বস্তু দেখা সংক্রমণের সন্দেহ তৈরি করতে পারে। মাড়ি ফ্যাকাশে হওয়া, কালচে পায়খানা, বারবার বমি বা অস্বাভাবিক নিস্তেজতা দেখা দিলে, বিশেষ করে ছোট ছানার ক্ষেত্রে, দ্রুত পশুচিকিৎসা নিন। এসব লক্ষণ অন্য রোগেও হতে পারে এবং লক্ষণ ছাড়াও কৃমি থাকতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে নির্দিষ্ট কৃমি চিহ্নিত করবেন না।

কোন কৃমিনাশক ওষুধ উপযুক্ত?

পাইরান্টেল, ফেনবেনডাজল ও প্রাজিকোয়ান্টেলের মতো উপাদান ভিন্ন ভিন্ন পরজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। কোনটি প্রয়োজন, তা কৃমির ধরন, কুকুরের বয়স, ওজন, গর্ভাবস্থা ও অন্যান্য ওষুধের ওপর নির্ভর করে। ওষুধের মোড়কে উল্লেখ করা সর্বনিম্ন বয়স ও ওজনের শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের কৃমির ওষুধ, অন্য প্রাণীর ওষুধ কিংবা প্রতিবেশীর কুকুরের ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করবেন না।

কুকুরকে নিরাপদে কৃমিনাশক কীভাবে খাওয়াবেন?

প্রথমে কুকুরের বর্তমান ওজন মাপুন এবং আগে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকলে তার নাম ও তারিখ লিখে রাখুন। পশুচিকিৎসকের নির্ধারিত ওষুধের নাম, মাত্রা ও পুনরায় দেওয়ার তারিখ মিলিয়ে নিন। কিছু ওষুধ খাবারের সঙ্গে দেওয়া যায়, অন্যগুলোর বিশেষ নির্দেশ থাকতে পারে। তাই সব কৃমিনাশক খালি পেটে বা সবগুলো খাবারের পরে দিতে হবে, এমন নিয়ম নেই।

ওষুধ তরল হলে নির্ধারিত পরিমাপক ব্যবহার করুন; বড়ি হলে কুকুরটি পুরোটা গিলেছে কি না দেখুন। জোর করে খাওয়াতে গিয়ে শ্বাসনালিতে ঢোকার ঝুঁকি তৈরি করবেন না। ওষুধ দেওয়ার পর বমি করলে নিজের সিদ্ধান্তে আবার একই মাত্রা দেবেন না। পরবর্তী করণীয় জানতে পশুচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

মল পরীক্ষা কেন দরকার এবং কখন করাবেন?

মল পরীক্ষায় কৃমির ডিম বা অন্যান্য পরজীবীর চিহ্ন শনাক্ত করা যায়, যদিও একটি পরীক্ষায় সব সংক্রমণ ধরা নাও পড়তে পারে। সঙ্গী প্রাণীর পরজীবী নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম বছরে অন্তত চারবার এবং সুস্থ পূর্ণবয়স্ক কুকুরের ক্ষেত্রে বছরে অন্তত দুবার মল পরীক্ষার পরামর্শ রয়েছে। তাজা মলের নমুনা পরিষ্কার, বন্ধ পাত্রে পরীক্ষাগারে দিন। উপসর্গ চলতে থাকলে পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক হলেও আবার পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভবতী, দুধ খাওয়ানো বা অসুস্থ কুকুরের ক্ষেত্রে সতর্কতা

গর্ভবতী কুকুরের জন্য সব কৃমিনাশক নিরাপদ নয়। তাই গর্ভাবস্থায় নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ না দিয়ে পশুচিকিৎসকের পরিকল্পনা অনুসরণ করুন। দুধ খাওয়ানো মা-কুকুরকে ছানাদের প্রথম চিকিৎসার সময় উপযুক্ত ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ কিছু নির্দেশিকায় রয়েছে। খুব দুর্বল, পানিশূন্য, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত বা অন্য ওষুধ খাচ্ছে এমন কুকুরকে পরীক্ষা ছাড়া কৃমিনাশক দেবেন না।

ওষুধ দেওয়ার পর কী সমস্যা হতে পারে?

কিছু কুকুরের সাময়িক বমি, পাতলা পায়খানা বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ তীব্র হলে, বারবার বমি হলে, মুখ ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা কুকুর অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়লে দ্রুত পশুচিকিৎসা নিন। মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের আশঙ্কা থাকলেও অপেক্ষা করবেন না। ওষুধের প্যাকেট সঙ্গে রাখলে চিকিৎসক উপাদান সম্পর্কে দ্রুত জানতে পারবেন।

কৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর ব্যবহারিক উপায়

প্রতিদিন কুকুরের মল দ্রুত সরিয়ে নির্ধারিত স্থানে ফেলুন এবং পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। শিশুদের মলদূষিত মাটিতে খেলতে দেবেন না। কাঁচা মাংস ও মৃত প্রাণী খাওয়া ঠেকান, বাসস্থান পরিষ্কার রাখুন এবং পিসু নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করুন। বিশেষত ফিতাকৃমির ক্ষেত্রে শুধু কৃমিনাশক দিয়ে পিসুর সমস্যাটি অমীমাংসিত রাখলে আবার সংক্রমণ হতে পারে।

কুকুরের কৃমিনাশক নিয়ে সাধারণ ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১. দুই সপ্তাহের কম বয়সী কুকুরছানাকে কৃমিনাশক দেওয়া যাবে?

নিজে থেকে দেওয়া উচিত নয়। প্রচলিত নির্দেশিকায় প্রথম চিকিৎসা দুই সপ্তাহ বয়স থেকে শুরু হয়, তবে খুব অসুস্থ বা বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা ছানার জন্য চিকিৎসক ভিন্ন ব্যবস্থা নিতে পারেন। নবজাতকের ওজন কম এবং শরীর সংবেদনশীল হওয়ায় ওষুধের ধরন ও পরিমাণ ভুল হলে সমস্যা হতে পারে।

২. পায়খানায় কৃমি না দেখলেও কি চিকিৎসা প্রয়োজন?

হ্যাঁ, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে। অনেক কৃমির ডিম খালি চোখে দেখা যায় না এবং সংক্রমিত কুকুরও স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। তাই শুধু দৃশ্যমান কৃমির ওপর নির্ভর না করে বয়সভিত্তিক প্রতিরোধ ও মল পরীক্ষার পরিকল্পনা অনুসরণ করা ভালো।

৩. কুকুরের কৃমিনাশক কি প্রতিবার একই ওষুধ হবে?

অবশ্যই নয়। গোলকৃমি, হুককৃমি বা ফিতাকৃমির জন্য কার্যকর উপাদান আলাদা হতে পারে। কুকুরের শারীরিক অবস্থাও সময়ের সঙ্গে বদলায়। পুরোনো ব্যবস্থাপত্র বারবার ব্যবহার না করে ওষুধটি বর্তমান ঝুঁকি ও ওজনের জন্য ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন।

৪. খাবারের আগে না পরে কৃমিনাশক দেবেন?

এটি নির্ভর করে নির্দিষ্ট ওষুধের নির্দেশনার ওপর। কিছু বড়ি খাবারের সঙ্গে বা ছাড়াই দেওয়া যায়, কিন্তু সব পণ্যের নিয়ম এক নয়। প্যাকেটের নির্দেশনা এবং পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন। ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে কুকুরকে অকারণে দীর্ঘ সময় না খাইয়ে রাখবেন না।

৫. ওষুধ খাওয়ানোর পর কুকুর বমি করলে কী করবেন?

কখন ওষুধ দিয়েছেন, কতক্ষণ পরে বমি হয়েছে এবং বমির সঙ্গে বড়ি বের হয়েছে কি না লিখে রাখুন। এরপর পশুচিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের সিদ্ধান্তে দ্বিতীয়বার পূর্ণ মাত্রা দেওয়া নিরাপদ নয়, কারণ প্রথম মাত্রার কিছু অংশ ইতিমধ্যে শরীরে শোষিত হয়ে থাকতে পারে।

৬. কৃমিনাশক দেওয়ার পরও কৃমি কেন দেখা যায়?

চিকিৎসার পর কিছু কৃমি মলের সঙ্গে বের হতে পারে। আবার ভুল ওষুধ নির্বাচন, নতুন সংক্রমণ বা নির্দিষ্ট পরজীবীর জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজনেও সমস্যা থাকতে পারে। কয়েক দিন পরও লক্ষণ থাকলে কিংবা কুকুর অসুস্থ হলে নমুনা নিয়ে আবার চিকিৎসকের কাছে যান।

৭. বাড়ির ভেতরে থাকা কুকুরেরও কি কৃমি হতে পারে?

পারে। বাইরে থেকে জুতা বা মাটির সঙ্গে পরজীবীর ডিম ঘরে আসতে পারে। পিসুর মাধ্যমেও কিছু ফিতাকৃমি ছড়ায়। তাই ঘরের কুকুরের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও একেবারে শূন্য নয়। তার জীবনযাপন অনুযায়ী পরীক্ষা ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা ঠিক করা উচিত।

৮. কৃমিনাশক ও টিকার দিন কি একই হতে পারে?

অনেক ক্ষেত্রে পশুচিকিৎসক একই সাক্ষাতে টিকা ও কৃমিনাশকের পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে কুকুরের জ্বর, বমি, দুর্বলতা বা আগের কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে সময়সূচি বদলানো লাগতে পারে। টিকা ও কৃমিনাশক ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়; একটি অন্যটির বিকল্প নয়।

৯. কৃমিনাশক কি হৃদ্‌কৃমির সংক্রমণও দূর করে?

না, সব কৃমিনাশক হৃদ্‌কৃমির বিরুদ্ধে কাজ করে না। অন্ত্রের কৃমির ওষুধ এবং হৃদ্‌কৃমি প্রতিরোধের ওষুধের উদ্দেশ্য আলাদা হতে পারে। সাত মাস বা বেশি বয়সী কুকুর আগে হৃদ্‌কৃমির প্রতিরোধমূলক ওষুধ না পেয়ে থাকলে তা শুরু করার আগে সাধারণত পরীক্ষা করা হয়। প্রতিরোধমূলক ওষুধ চললেও নিয়মিত পরীক্ষার পরিকল্পনা পশুচিকিৎসকের সঙ্গে ঠিক করুন।

১০. কৃমিনাশকের পরিবর্তে ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করা যায়?

রসুন, ভেষজ মিশ্রণ বা অপরীক্ষিত ঘরোয়া উপায়কে নির্ভরযোগ্য কৃমিনাশক ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কিছু উপাদান কুকুরের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। উপসর্গ দেখা দিলে যথাযথ পরীক্ষা ও পশুচিকিৎসকের নির্বাচিত ওষুধই নিরাপদ পথ। পরিচ্ছন্নতা সহায়ক, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।

উপসংহার

কুকুরের কৃমি নিয়ন্ত্রণের মূলনীতি হলো অল্প বয়স থেকেই সঠিক সূচি শুরু করা, বড় হলে সংক্রমণের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং ওজন অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ ব্যবহার করা। পরিচ্ছন্নতা, মল পরীক্ষা ও পিসু নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ চিকিৎসার জন্য অনুমানের বদলে পশুচিকিৎসকের নির্দেশনাই অনুসরণ করুন।

তথ্যসূত্র

Leave a Comment